back to top

সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি: সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৩
[photo_card_and_fontsize]

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন এলাকা সাজেকে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক কাটেনি। এদিকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। অবরোধ ছাড়াও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নিষেধাঞ্জা রয়েছে সাজেক পর্যটন ভ্যালীতে পর্যটন ভ্রমনে। তবে প্রশাসন দাবি করেছে, সাজেকের পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় বর্তমানে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। সাজেকে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবরোধের কারনে সাজেক ও আশপাশের এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ,সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সদস্যদের টহল জোড়দার করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার(২৪ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-সংগ্রাম জনতার পরিষদ নামে একটি সংগঠন। গতবৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউপিডিএফ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সংগঠনটি। চলমান সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যে এই আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, “সাজেকে সড়ক অবরোধ এখনো চলমান রয়েছে। সাজেক ১০ নম্বর ও ১৪ কিলোমিটার এলাকায় আমাদের পিকেটিং চলছে।” বিজয় কান্তি চাকমা আরও বলেন, “সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে এবং আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ভয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি ।
মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু করে ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত দুই সংগঠন ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’। এর আগে ও ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করা হলে প্রশাসনের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় এবং বৃহস্পতিবার থেকে তৃতীয় দফায় এ অবরোধ শুরু করে। তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানায় ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’।
তবে এখানে দুটি সংগঠনের ব্যানারে অবরোধের ডাক দেয়া হলেও মূলত ইউপিডিএফ এসব করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠন দুটির নেতাদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু)-র সশস্ত্র সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও জুমচাষিদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। পাহাড়ি জনগণের পূর্ণ নিরাপত্তা ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তাঁরা।
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ও থমথমে পরিস্থিতির কারণে সাজেকের পর্যটন ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, “সাজেক বর্তমানে একেবারেই পর্যটকশূন্য। আগের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। সাজেক অভিমুখী বা ভেতরের কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না।
সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আমেনা মারজান। তিনি বলেন সাজেকে অবরোধ চলছে, কোন পর্যটক যাতায়াত করছে না। এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও আরো জানান, ভয়ে অনেকে ঘরবাড়ী ও দোকানপাট ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এ ধরনের সংবাদ তিনিও শুনেছেন বলে জানান। তবে গত বৃহস্পতিবার যেরকম ঘটনা ঘটেছে, সেরকম পরিস্থিতি বর্তমানে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেক সড়কে কোন যানবাহন চলাচল করছে না। পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সর্ব্বোচ্য সকর্ত অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাজেকে অবরোধ মহাবিপর্যয়ে পর্যটন খাত, লাখ লাখ টাকার ক্ষতি:-
অবরোধের এই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে সাজেকের পর্যটন শিল্পে। এভাবে চলতে থাকলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন এবং সাজেকের পর্যটন অবকাঠামো পুরোপুরি ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পাহাড়ের বুক চিরে জেগে থাকা সাদা মেঘের ভেলার কারণে দেশজুড়ে সমাদৃত রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র ‘সাজেক ভ্যালি’। সবুজ উপত্যকা আর পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ—প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে সারা বছরই সাজেকে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। এ পর্যটন কেন্দ্রটি গত কয়েক বছরে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট-বড় কটেজ ও রিসোর্ট। কিন্তু দফায় দফায় অবরোধ ও সহিংসতায় সাজেকের পর্যটন ব্যবসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমাগত অবরোধ ও স্থানীয় সংঘাতের কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একের পর এক আকস্মিক অবরোধ কর্মসূচির ফলে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো সাজেক ভ্যালি, পর্যটকদের বুকিং বাতিল, অগ্রিম অর্থ ফেরতের প্রবণতায় ভরা মৌসুমে মন্দার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলের পুরো অর্থনীতি এবং জীবিকার ওপর। পুরো সাজেক এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।
সাজেক রিসোর্ট মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, সাজেকে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৫টি রিসোর্ট এবং শতাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকে আসা- যাওয়া করে, যার প্রতিটি গাড়ির গড় ভাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকা।
মূলত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এ তিন মাস সাজেকের পর্যটন ভরা মৌসুম। পর্যটনের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার পর্যটক থাকেন এসব কটেজে। ভরা মৌসুমকে সামনে রেখে সাজেকে নতুন অর্থ বিনিয়োগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কটেজ ও রিসোর্ট সংস্কার, কক্ষের মানোন্নয়ন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছেন। এই মৌসুমের সময়ে কটেজ, রিসোট ভাড়া, পর্যটকরা খাওয়া-দাওয়া এবং যাতায়াত ও ঘোরাঘুরি মিলিয়ে প্রায় সত্তর থেকে আশি কোটি টাকা ব্যয় করেন। সাজেকের পর্যটন খাতের একাধিক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কিন্তু চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় সেই বিনিয়োগের সুফল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন ব্যবসায় বছরের সব সময় সমান আয় হয় না। ঈদ, পূজা, সরকারি ছুটি ও শীতের মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। এ সময়ের আয় দিয়ে বছরের অন্য সময়ের তুলনামূলক কম ব্যবসার ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন উদ্যোক্তারা। ফলে পর্যটন মৌসুমে বুকিং বাতিল হওয়া এবং পর্যটকদের অগ্রিম অর্থ ফেরত দেয়ার চাপ তাদের বড় সংকটে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল পরিবহন, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় দোকানপাট ও অন্যান্য সেবা খাতও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রয়েল সাজেক ও রিসোর্টের মালিক এসএম জিয়াউল হক বলেন, ‘এখন সাজেক পুরোপুরি পর্যটকশূন্য। আমি প্রায় ১ লাখ টাকার বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের অর্থ ফেরত দিয়েছি। অন্য ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা ছাড়া বিকল্প নেই। এরই মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো ফল আসেনি। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। এতে পর্যটন খাতে আমাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’
সাজেকে রেস্তোরা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাজেক ভ্যালী পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ায় হোটেলের জন্য কয়েক লক্ষ টাকার খাবার সামগ্রী মজুদ করেছি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে আবারো অবরোধ ঘোষনা দেয়ায় মজুদকৃত খাদ্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাবে। এতে বেশ ক্ষতির সন্মুর্খীন হতে হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সাজেকের পর্যটন খাতকে সচল রাখতে হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ ও অবরোধের বিষয়ে কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। পর্যটন কেন্দ্রটিতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তাদের শুধু আবাসন-অবকাঠামো নির্মাণেই বিনিয়োগ করার পাশাপাশি কর্মীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বহন করতে হয়। ফলে পর্যটক আসা বন্ধ বা কমে গেলে এসব ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণের প্রধান ভিত্তি হলেও এ খাতের টেকসই বিকাশের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ও স্থিতিশীল পরিবেশ জরুরি। সংঘাত ও অবরোধের কারণে পর্যটন মৌসুমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকলে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন উদ্যোক্তারা। তাই পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসন দ্রুত বিরোধের সমাধান এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ন দেব বর্মন বলেন, এর আগে চারদিন বন্ধ থাকার পর পূজার ছুটিতে সাজেক খুলে দেয়া হয়। পর্যটন মৌসুমে এখানে সবার ভালো বুকিং ছিল। কিন্তু সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এখন বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। অনেক উদ্যোক্তা কটেজ ও রিসোর্ট সংস্কারে নতুন করে বিনিয়োগ করেছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করেছি। প্রশাসন যদি এ পরিস্থিতির সুরাহা না করে, তাহলে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আমাদের সবাইকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

বিপন্ন স্থানীয়দের জীবন ও জুমের ফসল:
অবরোধের প্রভাব শুধু পর্যটনেই সীমাবদ্ধ নেই। সাজেকের স্থানীয় প্রায় ৩০ হাজার লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রাও স্থবির হয়ে পড়েছে। বাঘাইহাট, মাচলং ও উজোবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ওষুধ সাজেকে পৌঁছাতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জুম চাষিরা। পরিবহন সংকটের কারণে তারা তাদের উৎপাদিত জুমের ফসল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে খেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল, যা পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে এনেছে।
স্থানীয় অভিঞ্জ মহলের মতে, কয়েকদিন পর পর এভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র অবরুদ্ধ থাকলে অচিরেই সাজেক তার আকর্ষণ হারাবে এবং এই সাজেক ভ্যালি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছাবে। পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক ও বিনোদন খাতটিকে বাঁচাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা।

সাজেকে হামলার নিন্দা পিসিসিপিরঃ-
সাজেক পর্যটন সড়কে পর্যটকদের গাড়ি বহর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলা এবং সড়ক অবরোধ করে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
শুক্রবার(২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এই ন্যক্কারজনক ঘটনার চরম ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাজেক কারও একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র নয়। এটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এক পর্যটন কেন্দ্র। কোনো অপশক্তি পাহাড়ে নতুন করে অশান্তি ও অবরোধের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পাহাড়ের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও পাহাড়ে সন্ত্রাসমুক্ত, উন্নত ও শান্তিময় পরিবেশ গঠনে সরকার ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন