ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, তবে দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি কমে যায়।
মিরসরাইতে মোট ১০৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ৪ জন প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। রাত ১০টা পর্যন্ত আসনের বেসরকারি আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ) বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ৬৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে নুরুল আমিন ৮৩ হাজার ২৮ ভোট পেয়েছেন, আর জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫০ হাজার ৪৪ ভোট, যা নুরুল আমিনকে ৩২ হাজার ৯৮৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। বাকি ৪১টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষিত হয়নি।
ভোটগ্রহণের সময় নানা দৃশ্য চোখে পড়েছে। মিরসরাই সরকারি পাইলট কেন্দ্রে ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গেইট খোলার সময় সামান্য বিলম্ব হয়। ভোটাররা অনাস্থার সাথে অপেক্ষা করেন। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান জানান, দেরির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তদন্ত করছেন।
ভোটারের মধ্যে অনেকের জন্য এটি ছিল জীবনের প্রথম ভোট। আবার কেউ বলেছেন এটি হয়তো তাদের শেষ ভোট। মিরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শতবর্ষী ওজিবা খাতুন অসুস্থ অবস্থায়ও ভোট দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমার অনেক বয়স, এই জীবনে অনেকবার ভোট দিয়েছি। এবারের ভোটই হয়তো শেষ।” তার সঙ্গে কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
সকাল সাড়ে ৮টায় পূর্ব দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা ভোটার মো. সিরাজুল ইসলাম (৬৫) প্রথমবার ভোট দিতে এসে আনন্দিত। প্রবাসী মো. মোস্তফা দীর্ঘ ২৬ বছর পর প্রথম ভোট দিতে পেরে খুশি। এছাড়া অনেক ভোটার প্রথমবার ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাররা সকালের দিকে উপস্থিতি ভালো রাখলেও ভোটগ্রহণ ধীরগতিতে হওয়ায় কিছুটা সময় লেগেছে। কেন্দ্রে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, লাঙ্গল ও আপেল প্রতীকের এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। প্রিজাইডিং অফিসার মো. দিদারুল আলম জানান, এখানে মোট ভোটার ৩ হাজার ২৯৫ জন।
দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে এসে ভোট দেন সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা কামরুল হাসান বাপ্পি। তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় পুরো সময় থাকতে না পারলেও যেকোনো উপায়ে ভোট দেওয়ার সংকল্প ছিল।” প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে বাপ্পি ভোট দিতে পেরেছেন।

দুপুরে বারইয়ারহাট কলেজ কেন্দ্রে দেখা গেছে, সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি ভালো হলেও দুপুরে অনেক কমে যায়। ৯টি বুথে ৪ হাজার ৭৬৫ ভোটের মধ্যে ২ হাজার ৪২৮ ভোট পড়ে, যা ৫১%। দক্ষিণ আমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৮৯৯ ভোটার থাকলেও দুপুর আড়াইটার মধ্যে ২ হাজার ৫৪১ ভোট পড়ে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯, নারী ভোটার ১ লাখ ৬ হাজার ৮১১, এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৪ জন। পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ৫৭২ জন।
বিএবপির নুরুল আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। কোন সহিংসতা ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। আগামীতেও শান্তি বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেছি।
ছাইফুর রহমান বলেন, সকালে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটাররা উৎসবমুখর অংশগ্রহণ করেছেন। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। মোট ৩ লখ ৮০ হাজার ১০২ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৭ ভোট পড়েছে, শতকরা হারে ৪৯%।
