ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জনই জামানত হারিয়েছেন। শতাংশের হিসেবে যা ৬৭ দশমিক ৮২। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাবে এবার বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর প্রায় সব প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের হার পূরণ করতে পারেননি। জাতীয় পার্টি এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রামের কোনো আসনেই তাদের প্রার্থীদের জামানত রক্ষা করতে পারেনি।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে এনসিপির একমাত্র প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফও নির্ধারিত ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। একইভাবে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলামও জামানত হারিয়েছেন। সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালি) আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী নুরুল আবছার মজুমদার। তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হারের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও নিয়মভিত্তিক প্রক্রিয়া। সব আসনের ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় ছোট ও নতুন দলগুলোর প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারেননি। ভোটাররা প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও কার্যত ভোটের ব্যবধানে বড় ফারাক তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জামানত বাজেয়াপ্তের সংখ্যায়।
