back to top

রমজান ঘিরে চট্টগ্রামে মুরগির বাজারে অস্থিরতা

বাজার তদারকির অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০২:৪৫
[photo_card_and_fontsize]

একদিন পরই পবিত্র রমজান শুরু। এর আগ থেকেই চট্টগ্রামে বাড়তে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায়। একই সঙ্গে সোনালি জাতের মুরগির দাম দাঁড়িয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই এ দামের উল্লম্ফন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবেই এমন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুদিন আগেও ব্রয়লারের কেজি ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে কোথাও ২০০, কোথাও ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি ৩২০-৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজান ঘিরে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। নগরীর মুরাদপুর এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফ কবির বলেন, গরু-খাসির মাংস ও মাছও নাগালের বাইরে। তাই ব্রয়লার আর ডিমই ভরসা। কিন্তু রমজান এলেই হঠাৎ দাম বেড়ে যায়। গত বছরও রোজার আগে দাম ২৫০ টাকায় উঠেছিল। এবারও সেই আশঙ্কা দেখছি।

খামারিরা জানান, উৎপাদন পর্যায়েই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রয়লার মুরগির এক দিনের বাচ্চা বিক্রি হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০-৪০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগেও বাচ্চার দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা। কিন্তু গত এক সপ্তাহে চার দফা বেড়ে এখন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বাচ্চা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।

হাটহাজারীর ফতেপুর গ্রামের খামারি আকবর হোসেন বলেন, আমার দুটি খামারে তিন হাজার ব্রয়লার পালন করি। খাদ্য, বিদ্যুৎ, ভাড়া ও শ্রমিকের খরচ বেড়েই চলেছে। তার ওপর বাচ্চার দাম ৮০-৮৫ টাকা হলে খামার চালানো কঠিন। আর এমনিতে ঈদ বা রমজান সামনে এলেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয় বলে দাবি করেন এই প্রান্তিক খামারি।

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, উৎপাদন খরচ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা হিসাব করলে ব্রয়লার বাচ্চার দাম ৩৫-৪০ টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। অযৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে প্রান্তিক খামারিদের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানকে ঘিরে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এখনই বাজার মনিটরিং জোরদার এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গত দুই বছরের মতো এবারও ব্রয়লার ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করার আশঙ্কা রয়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, দাম বাড়ার কোনো মৌলিক কারণ নেই। বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। ছোট খামারিরা লোকসানে পড়ে বাজার থেকে সরে যাওয়ায় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভাব বিস্তার করছে। এতে ভোক্তা ও প্রান্তিক খামারি উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।