রাজনীতির মাঠে নারীদের পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সব জায়গাতেই লড়াই করে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হয়। সেই লড়াইয়ের এক পরিচিত নাম দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটা।
তিনি জানান, দল যদি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে তাকে মনোনয়ন দেয়, তবে দেশ ও জনতার সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছেন। তার ভাষায়, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার নয়, দায়িত্বের জায়গা।”
শিক্ষাজীবন ও সাংগঠনিক পথচলা
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেন লিটা। পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। এর আগে তিনি একই সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
তার সহকর্মীদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার কারণে তিনি তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য এক নেত্রী।
আন্দোলন, মামলা ও কারাবরণ
দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটার রাজনৈতিক জীবন কেবল পদ-পদবির নয়, বরং মামলা-গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতায়ও ভরা। তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ৪২ দিন কারাভোগ করেন। একই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক আইনের আরও দুটি মামলায় মোট ৬৩ দিন কারাগারে থাকতে হয়।
২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা দায়ের হয়। ফেনীর লালপোল এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হলে তিনি প্রায় ১৮৬ দিন কারাভোগ করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
একই বছরের ২০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরেকটি আইসিটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৯৮ দিন কারাভোগ করেন। এছাড়া ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ৭৪ দিন কারাবরণ করেন।
ব্যক্তিগত ত্যাগ ও প্রত্যাশা
তিনি জানান, অবিবাহিত থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরিবার থেকে দূরে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। তবুও আদর্শ থেকে সরে আসেননি।
তার মতে, “নারীদের রাজনীতিতে আরও এগিয়ে আসতে হবে। সংসদে নারীদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হলে সংরক্ষিত আসন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জায়গা হতে হবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
একজন সংগ্রামী নারীর গল্প—যিনি রাজনীতিকে দেখেন দায়িত্ব, আদর্শ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার হিসেবে।
