back to top

চট্টগ্রামে এনসিপির ৫০ জনে ২৫ কোরাম : ফেসবুকে রাফির বিস্ফোরক পোস্ট

স্টেকের খেলায় লন্ডভন্ড চট্টগ্রামের রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৬ ১৬:১৯
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক সম্ভাবনা পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি। আজ সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাফি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে তার নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা অংশ নিয়েছিলেন।

রাফি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম এনসিপির জন্য একটি বৃহৎ সম্ভাবনার জায়গা ছিল। অভ্যুত্থানের সময় এ অঞ্চলের নেতাকর্মীদের অবদানও কম ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করা হয়েছে। তার ভাষায়, “স্টেকের খেলায় চট্টগ্রামের সম্ভাবনা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে যারা সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে গেছেন, তাদের মাধ্যমেই বিভাজনের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘রাসেল-রাফি বিভাজন’ তৈরি করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব উসকে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। বিভিন্ন কৌশল ও ‘মেকানিজম’ ব্যবহার করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন রাফি।

“এমন কোনো প্রোপাগান্ডা নাই যেটা আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো হয় নাই। এমন কোনো নোংরামি নাই যেটা আমার সাথে করা হয় নাই”- পোস্টে এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, সবকিছু নীরবে সহ্য করেছেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তার মতে, আশপাশের সহকর্মীরা পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত।

রাফি আরও বলেন, তিনি কখনো চট্টগ্রামের স্থায়ী রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পরিকল্পনা করেননি। বরং তার উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রামে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করা। কিন্তু সেই সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি। ঢাকা থেকে অনেকেই চট্টগ্রামে ‘স্টেক’ নিতে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোরাম সংকট রয়েছে এবং বাস্তবতার সঙ্গে কাগুজে উপস্থিতির ফারাক আছে।

অনেকেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর ফলেই আজ চট্টগ্রামে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য, “দিনশেষে আজকে চট্টগ্রামের এই হাল! ৫০ জন মানুষের মাঝে ২৫টা কোরাম—আর সেগুলো কোথা থেকে করা হয়, তা আর বললাম না।”

তিনি ইঙ্গিত করেন, সাংগঠনিক বাস্তবতা ও কাগুজে উপস্থিতির মধ্যে ফারাক রয়েছে। তবে বিস্তারিত প্রকাশ না করে বলেন, “একদিন সব হয়তো লেখা হবে, সব হয়তো বলা হবে।”

সমালোচনার পাশাপাশি তিনি আশাবাদও ব্যক্ত করেন। তার মতে, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও তদারকি থাকলে চট্টগ্রামে এনসিপির রাজনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া হলে দলটি অন্তত সাংগঠনিকভাবে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

এর আগে একই দিন চট্টগ্রামের দি কিং অব চিটাগং কনভেনশন সেন্টারে এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।