মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এই প্রথম সৌদি আরবের একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সাথে দেশটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত বিমান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ইরানের পাঠানো সবকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ইরানের পক্ষ থেকে ৬টি আত্মঘাতী ড্রোন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ‘শায়েবাহ’ তেল খনি লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৬টি ড্রোনই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেয়। এর পাশাপাশি সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস’ লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলার ফলে তেলের খনি বা বিমান ঘাঁটিতে কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এই সামরিক উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ দিনের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় সংলাপ চলে। তবে কোনো প্রকার সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আলোচনাটি ভেস্তে যায়। এর ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে বড় ধরণের অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামক সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সাঁড়াশি আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সৌদি আরবের ওপর এই সাম্প্রতিক হামলা মূলত সেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপেরই অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইরানের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং মিত্রবাহিনীর ক্রমাগত অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র সৌদি আরবের তেলের খনিতে সরাসরি হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চল এখন এক নজিরবিহীন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
