চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন এমপি বলেছেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনা বিকৃত করে রাজনীতি করার দিন শেষ। একটি গোষ্ঠী ৭১-এর চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘ ৫৪ বছর রাজনীতি করেছে। এখন আরেকটি গোষ্ঠী ২০২৪ সালের ইতিহাস বিকৃত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পূর্বে প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, একটি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে পালিয়ে গেছে, আরেকটি গোষ্ঠী দেশের সংকটময় সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। দেশের মানুষ এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন এবং কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেবে না।
নুরুল আমিন এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে সব প্রতিশ্রুতি এবং উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণ সেই অগ্রযাত্রার অংশীদার।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, সদস্য সচিব কমিশনার জসিম উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাহিদ হোসাইন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওমর শরিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সফলতা পায়। কোনো জাদুবলে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়নি। বরং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলেই এ পরিবর্তন এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এক-এগারোর সময় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তারেক রহমানকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু হলেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এদেশে আর কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারবে না। জনগণই গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।
