চট্টগ্রামে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারমূল্য সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১ এপ্রিল থেকে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। গত মার্চ মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে বাস্তবে এই দাম বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম নগরীর দুই নং গেট, মুরাদপুর, আসকার দীঘি এলাকা ও সীতাকুণ্ড-মিরসরাই উপজেলার দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়।
বিভিন্ন এলাকার ভোক্তা জানান, সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই সুযোগ নিচ্ছেন। তবে দোকানিদের দাবি, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় তারা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নগরীর ষোলশহর এলাকাট কাইয়ুম ষ্টোরের মালিক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সব জায়গায় দাম বেশি। এলপিজি আমদানি কমে যাওয়ার কথা বলে পরিবেশকরা সরবরাহ কমিয়ে রেখেছেন। আমরা নিজেরাই ডিলারদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকায় কিনছি। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ করে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সাধারণ মানুষও এই সংকটে চাপে পড়েছেন। মিরসরাই উপজেলার বাসিন্দা মোমেনা আক্তার রুমা বলেন, গত মাসে ১ হাজার ৬০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনেছিলাম। এখন একই সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ২ হাজার টাকায়। সরকার দাম ঠিক করে দিলেও বাজারে তার প্রভাব নেই। বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
