একমাত্র রাষ্ট্রায়াত্ব জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুত আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের পরিস্থিতি সামাল দিতে অব্যবহৃত মজুত বা ডেড স্টক থেকে ১৫ হাজার টন তেল উত্তোলন করে তা পরিশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারী সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি ট্যাংকের তলায় আনুমানিক ১৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পড়ে আছে। এই তেলকে ডেড স্টক বলা হয়। ট্যাংক থেকে নির্দিষ্ট পাইপের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের পর অবশিষ্ট এই তেল পড়ে থাকে। পরিশোধনের জন্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সাধারণত এই তেল তোলা হয় না। কারণ তলায় থাকা এই তেল তুলতে হলে অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যরে পাইপলাইন স্থাপনসহ কিছু বাড়তি কাজের প্রয়োজন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের পর হরমুজ প্রনালী দিয়ে দুইটি অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে পারেনি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের পর ইআরএলে ক্রুড অয়েলের ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় ইআরএল বাধ্য হয়ে ডেড স্টক তোলে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তেল পরিশোধন করতে চার থেকে ৫ দিন লাগতে পারে। ইআরএল প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। তবে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে দিনে গড়ে সাড়ে তিন হাজার টন করে পরিশোধন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, ইআরএলে জ্বালানি তেল পরিশোধন অব্যাহত রাখতে মালয়েশিয়া থেকে এক জাহাজ অপরিশোধিত তেল আনার প্রস্তাব আসে। প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই তেল ইআরএলে পরিশোধন করা সম্ভব। কিন্তু মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এ সংক্রান্তে কোনো চুক্তি নেই। ফলে চুক্তির প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে জাহাজটি আনতে সময় লাগতে পারে। মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসতে ৫দিন লাগে। ইআরএলে পরিশোধন করার জন্য প্রধানত সৌদি আরব থেকে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আনা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অপরিশোধিত তেলেরও বড় আমদানিকারক।
বিপিসির একজন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরব থেকে এক জাহাজ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ওই জাহাজ চট্টগ্রাম পৌঁছতে অন্তত একমাস সময় লেগে যাবে।
ইআরএল বাংলাদেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার ২০ শতাংশ পরিশোধন করতে পারে। অবশিষ্ট জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। তার অংশ হিসেবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়া থেকে দুই জাহাজে করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন পরিশোধিত তেল আমদানি করেছে সরকার।
