back to top

কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দুই মাসের আল্টিমেটাম

৮ সংগঠনের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৯
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন আটটি সামাজিক ও পরিবেশ সংগঠনের নেতারা। গতকাল রবিবার নগরের ফিরিঙ্গি বাজার ফেরিঘাট এলাকায় কর্ণফুলীর তীরে অর্ধ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশে জানানো হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধনটি আয়োজন করে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, সিকদার ফাউন্ডেশন এবং কর্ণফুলী নদী হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি শ্রমিক ইউনিয়ন।

বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী দেশের অর্থনীতির সঞ্চালক হলেও দখল ও দূষণের কারণে এটি ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা জানান, ২০১০ সালে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের দায়ের করা এক রিট মামলায় হাইকোর্ট নদীর তীরবর্তী ২১৮১টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। তবে ২০১৬ সালের নির্দেশনার বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, যে নদী দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তার এই অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। সংসদ সদস্যদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা উচিত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) নেটওয়ার্ক সদস্য আলীউর রহমান বলেন, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে দখলদাররা বারবার সুযোগ পাচ্ছে।

চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী নদীর পাড়ে এখনও বহাল রয়েছে ১৮ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এতে বেদখল হয়ে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর অন্তত ২৫০ একর ভূমি। এই কর্ণফুলী নদীকে অবৈধ দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষার জন্য চট্টগ্রামের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আন্দোলনের মাধ্যমে সোচ্চার থাকলেও কর্তৃপক্ষের কার্যক্রর কোনো পরিকল্পনা নিতে দেখা যায়নি।