back to top

মতভেদ পেরিয়ে ডিসি হিলে একমঞ্চে বর্ষবরণ

সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ সিএমপির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪১
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিলকে কেন্দ্র করে আবারও ফিরছে পহেলা বৈশাখের আয়োজন। নানা মতপার্থক্য ও টানাপোড়েন শেষে এবার জেলা প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিএনপিপন্থি বিভিন্ন পক্ষ একসঙ্গে বর্ষবরণের আয়োজন করছে। একইসঙ্গে সিআরবির শিরীষতলাতেও পৃথক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এবার ডিসি হিলে আয়োজন ঘিরে শুরুতে জেলা প্রশাসন ও ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম’-এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৯৭৮ সাল থেকে পরিষদটি সেখানে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করে এলেও এবার জেলা প্রশাসন নিজ উদ্যোগে আয়োজনের ঘোষণা দেয়। এতে বিএনপিপন্থি সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে অতীতে অংশ নেওয়া কয়েকটি সংগঠন সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ অবস্থায় পরিষদটি ২ এপ্রিল পৃথক সভা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয়। মেয়রের অনুমতি পেলেও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর পরিষদটি ডিসি হিলের মূল আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক সুচরিত দাশ খোকনও জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে শহীদ মিনারে অনুমতি না মেলায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হয়েছে। মতভেদ থাকলেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাই একমঞ্চে এসেছে।

এদিকে, নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরজুড়ে দেড় কিলোমিটার সড়কে আল্পনা আঁকা হয়েছে। সার্কিট হাউস থেকে লাভলেইন হয়ে কাজীর দেউড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই রঙিন আয়োজন উৎসবের মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী-শিল্পীরা। লতাপাতা, ফুল, পাখি ও লোকজ নকশায় ফুটে উঠেছে বাঙালির ঐতিহ্য।

নিরাপত্তার বিষয়েও কড়া অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ডিসি হিল ও সিআরবিকে কেন্দ্র করে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও সুশৃঙ্খল আয়োজন নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্রাইম ডিভিশন, ডিবি, সিটি এসবি, সোয়াত ও ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
তবে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। সূর্যাস্তের পর কোনো কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিসি হিল ও সিআরবি সংলগ্ন সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বর্ষবরণের আয়োজকরা জানান, এবার ডিসি হিলে প্রায় ৫০টি সংগঠন গান, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশনা করবে। সকাল ৮টায় সার্কিট হাউস থেকে ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হবে। অন্যদিকে সিআরবির শিরীষতলায় চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে ৯০টির বেশি সংগঠন।

এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমি, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ, জেএম সেন হলসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে বর্ষবরণ আয়োজন করা হয়েছে। ‘আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন’ প্রতিপাদ্যে এনায়েত বাজার বৌদ্ধমন্দির সড়ক সাজানো হচ্ছে রঙে রঙে। শিশুদের জন্য ফুলকিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা।