চট্টগ্রামে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। নগর এলাকায় প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক স্থানে দিনে ২২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। জ্বালানি সংকট ও একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চট্টগ্রাম জোনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সময়কে পিক-আওয়ার ধরা হয়, যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফ-পিক সময়ে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। তবে বর্তমানে পিক-আওয়ারে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
পিডিবির ১৫ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪.০৯ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ১১১.০৯ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পিক-আওয়ারে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩২.৭৩ মেগাওয়াটে, যেখানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১৭০.৭৩ মেগাওয়াট।
এদিকে, উৎপাদন ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে জ্বালানি সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ২, ৩ ও ৫ বন্ধ রয়েছে। যদিও কাপ্তাই-৪ ইউনিট থেকে আংশিক উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি রাউজানের দুটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এছাড়া জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটিও বন্ধ রয়েছে।
নগরীর গ্রিন ভ্যালি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একবার গেলে অন্তত এক ঘণ্টা পর আসে। গরমের মধ্যে এই পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও করুণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেখানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, কৃষিকাজে বিঘœ এবং নিত্যদিনের কাজকর্মে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়টিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে চলতি বছর জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতাও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, গ্যাসের স্বল্পচাপ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। সরবরাহের ওপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ওঠানামা করছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন জানান, আগ্রাবাদ কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। গত চার-পাঁচ দিন ধরে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পিক-আওয়ারে চাহিদা বেশি থাকায় তখন লোডশেডিংও বেশি হচ্ছে।
