back to top

বহির্নোঙরে জট, লাইটার সংকটে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর

জ্বালানি সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৫২
[photo_card_and_fontsize]

জ্বালানি সংকটের কারণে লাইটার জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তীব্র জট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৮১টি মাদার ভেসেল অবস্থান করছে, যার ফলে পণ্য খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বহির্নোঙরে থাকা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। আগে প্রায় ১,২০০ লাইটার জাহাজ এ কাজে নিয়োজিত থাকলেও জ্বালানি সংকটে এখন তার অর্ধেকেরও কম সচল রয়েছে। যেগুলো চলছে, সেগুলোও সীমিত পরিসরে, মূলত চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটেই চলাচল করছে।

গত দেড় মাস ধরে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ বন্ধ থাকায় পণ্য খালাসে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা সীমিত হওয়ায় বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে এসব মাদার ভেসেলকে বহির্নোঙরে অবস্থান করে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে বন্দরের জলসীমায় প্রায় ১০০টি মাদার ভেসেল রয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে ৫৪টি জাহাজে খালাস কার্যক্রম চললেও তা খুবই ধীরগতির। একটি জাহাজ পুরোপুরি খালাস করতে যেখানে চারটি লাইটার প্রয়োজন, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে এক বা দুটি দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে।

এদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা খালাসেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড় লাখ টন কয়লাভর্তি তিনটি মাদার ভেসেল বহির্নোঙরে অলস পড়ে আছে। সময়মতো খালাস না হওয়ায় প্রতিদিন জাহাজপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “লাইটার জাহাজের সংকটের কারণে বহির্নোঙরে জট ক্রমেই বাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, নাহলে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

অন্যদিকে, লাইটার জাহাজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, প্রতিটি লাইটার জাহাজের প্রয়োজনীয় জ্বালানির অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পর্যাপ্ত জাহাজ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে জাহাজ খালাসের সময় ৪-৫ দিন পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।