back to top

জ্বালানির দাম বাড়তেই চট্টগ্রামে পরিবহন খাতে অস্থিরতা

বাড়তি ভাড়ায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৩৭
[photo_card_and_fontsize]

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর চট্টগ্রাম নগরে গণপরিবহনে শুরু হয়েছে ভাড়া নৈরাজ্য।  নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

গতকাল সরেজমিনে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার পরিবহনে ভাড়া স্থিতিশীল থাকলেও নগরের অভ্যন্তরীণ রুটে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। ডিজেলচালিত মাহিন্দ্রা ও টেম্পোতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বহদ্দারহাট-নতুন ব্রিজ ও বহদ্দারহাট-ওয়াসা রুটে ভাড়া ১৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা। মুরাদপুর থেকে কোতয়ালি পর্যন্ত ২০ টাকার ভাড়া বেড়ে এখন ৩০ টাকা। একইভাবে লোকাল বাসগুলোতেও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুরাদপুর থেকে ফটিকছড়ির বিবিরহাট রুটে ভাড়া ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, কিলোমিটারভিত্তিক কোনো হিসাব না মেনে চালকেরা নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকি গ্যাসের সংকট না থাকলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও অযৌক্তিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনেক পরিবহন সড়কে নামছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে যানবাহনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগে চালকেরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন পরিচালনায় প্রতিদিনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে টায়ার, লুব্রিকেন্টসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দামও বাড়ায় মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ভাড়া কাঠামো দিয়ে এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) কে এম মাহবুব কবির বলেন, এখনো নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা কার্যকর করা হবে। ততদিন আগের ভাড়াই বহাল থাকবে বলে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়লে কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ার কথা মাত্র ১৫ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে।