চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১৭তম জব্বারের বলী খেলা আগামী শনিবার বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের খেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০৮ জন বলী অংশ নিবেন। বহুল প্রত্যাশিত বলী খেলা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজনও করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।
গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এবারের ১১৭তম জব্বারের বলীখেলায় উদ্বোধক থাকবেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, প্রধান অতিথি থাকবেন চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
জব্বারের বলীখেলা ঘিরে ২৪ এপ্রিল থেকে বৈশাখী মেলা শুরু হবে। তবে এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের মেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল রবিবার ভোরের মধ্যে মেলা শেষ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিএমপি ও র্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি, সোয়াট এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মেয়র বলেন, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এ বলী খেলার সূচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় যুগের পর যুগ ধরে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে লালদিঘী মোড়কে জব্বারের মোড় করার দাবি জানানো হয়। আমরা ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা মাথা রেখে চত্বরটিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, বলীখেলার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তারা কাজ করছেন। একই সঙ্গে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলি খেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাই।
