back to top

আজ চট্টগ্রামে শতাধিক বলীর লড়াই দেখবে লাখো মানুষ

জব্বারের বলীখেলা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:১৫
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭ তম আসর বসছে আজ। শনিবার বিকেল ৪টা থেকে শুরু হতে যাওয়া বলীখেলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বলীদের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশালাকৃতির একটি মঞ্চ। শনিবার লালদীঘি মাঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা শতাধিক বলীর লড়াই দেখবে লাখো মানুষ।

বলীখেলা উপলক্ষে লালদীঘির চারপাশ ঘিরে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার জুড়ে বসেছে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আগত দোকানিরা বসেছেন নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল জানান, জব্বারের বলীখেলা চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেছে। এটি এখন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর প্রধান বিনোদনের মাধ্যম। আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শরিবার বলীখেলায় খেলায় অংশ নিতে শতাধিক বলী রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই করে মূল পর্বের জন্য ৮০ জন বলীকে নির্বাচন করা হবে। সেখান থেকে চারজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে বকশিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর লালদীঘি মাঠে ১৯০৯ সালে এই বলীখেলার প্রবর্তন করেছিলেন। সেই থেকে তার নামেই এই খেলার নামকরণ করা হয়। এবার বসছে ১১৭ তম আসর। বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুইদিনের বৈশাখী মেলাও জমে উঠেছে। মেলা চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।

গতকাল মেলা ঘুরে দেখা গেছে, কোতোয়ালী থানা মোড় থেকে জেল রোড, লালদীঘি হয়ে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও সিনেমা প্যালেস মোড় পর্যন্ত মাঠের আশপাশের প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বসেছে মেলা। মাটির তৈজসপত্র, খেলনা, ফুলদানি, পুতুল, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র, হাতপাখা, মাছ ধরার পলো, বেতের তৈরি ডালা, কুলো, ফলদ, বনজসহ ফুল গাছের চারা, মুড়ি মুড়কি, পাটি, মাদুর, চুরি, কসমেটিকস, দা-বটি, ছুরিসহ এহেন কোনো পণ্য নেই, যা পাওয়া যায় না এ মেলায়।

দুইদিনের এই মেলাকে ঘিরে দু’দিন আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ীরা নানান পণ্য নিয়ে এসেছেন। প্রতিবছর মেলা চলে তিনদিন। তবে এবার মেলার ব্যাপ্তি একদিন কম হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
দিনাজপুর থেকে আবুল হোসেন এসেছেন বেতের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে। সকাল থেকে বেচাবিক্রিও শুরু করে দিয়েছেন। এবারের মেলা এক দিন কম হবে শুনে তিনি কিছুটা চিন্তিত।

তিনি জানান, অনেক বছর ধরেই এই মেলায় আসি। এবারও ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার জিনিস এনেছি। পাখা, বেতের ঝুড়িসহ ১৫ থেকে ২০ ধরনের পণ্য আছে। মেলা দুই দিন চলবে আগে জানতাম না। এখন এতকিছু বিক্রি হবে কি না, সেই নিয়ে চিন্তা করছি।

জব্বারের বলি খেলা থেকে কেনা হাতপাখার কদর চট্টগ্রাম জুড়ে। চন্দনাইশ থেকে বেত ও তালপাতার পাখা এনেছেন জহির মিয়া। গরমের এই সময়ে হাতপাখা কিনে কেউ ঠকবে না বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

বলীখেলার এই মেলায় চট্টগ্রামের মানুষের বেশি চাহিদা থাকে ফুল ঝাড়ুর। এমন কোন পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা বলী খেলার মেলা থেকে এ ফুল ঝাড়ু সংগ্রহ করেন না। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়াসহ নানা জায়গা থেকে এসব ফুল ঝাড়ু নিয়ে মেলায় আসেন দোকানিরা।

প্রতিবছর জব্বারের মেলা থেকে ঝাঁড়ু কেনেন চকবাজারের এলাকার বাসিন্দা তামান্না খাতুন। এবারও কিনেছেন ১২টা। তিনি বলেন, মেলায় মানসম্পন্ন ঝাঁড়ু কম দামে বিক্রি হয়, তাই আমি মেলা থেকে কিনে নিই। কিছু নিজে রাখি, কিছু আত্মীয়-স্বজন দিই।

সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরির বিপরীতে লালদীঘি মাঠের সীমানা প্রাচীরের সাথে ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসেছেন বেলায়েত হোসেন নামে এক ব্যক্তি। বাঁশখালীর ইলশা ইউনিয়ন থেকে আসা বেলায়েত বলেন, বাপ-দাদারাও প্রতিবছর মেলায় আসতেন, এখন আমরা আসি। সারাবছর বিভিন্ন দোকানে ঝাঁড়ু সরবরাহ করেন তারা। সারাবছর যে পরিমাণ সরবরাহ করি, তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলীখেলার মেলায়।