চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও বা বুকসমান পানিতে ডুবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় তীব্র যানজট। হঠাৎ জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
জলাবদ্ধতার সুযোগে কিছু অটোরিকশা ও রিকশাচালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেখানে সাধারণত ২০ টাকা ভাড়া, সেখানে নেওয়া হয়েছে ৬০ টাকা পর্যন্ত। তবে অতিরিক্ত ভাড়া দিতেও অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সড়কে জমে থাকা পানিতে বিকল হয়ে পড়ে অনেক যানবাহন। বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়—বাস, টেম্পো ও রাইডশেয়ার যানবাহনের সংখ্যা কমে যায়, ফলে অফিসফেরত মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
বান্দরবানের আলীকদম থেকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে আসা নাহিদা আক্তার রিমা জানান, নতুন চান্দগাঁও থানার সামনে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি কোনো সিএনজি অটোরিকশা পাননি। পরে বাধ্য হয়ে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে রিকশায় গন্তব্যে যেতে হয়েছে তাকে।
অটোরিকশাচালক জরির উদ্দিন বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি আর যানজটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তিনগুণ সময় লাগছে চলাচলে।

নগরের মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, বাকলিয়া, ডিসি রোড, হালিশহর, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দুপুরের দিকে ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে নাজুক। কোমরসমান নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে যায় পুরো এলাকা। এর প্রভাবে জিইসি ও গোলপাহাড় মোড়েও তীব্র যানজট তৈরি হয়। স্বাভাবিক পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি।

স্থানীয়রা বলছেন, খাল সম্প্রসারণ কাজ চলমান থাকায় অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে খালের পানি উপচে সড়কে উঠে আসে।
পথচারীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে, কাপড় গুটিয়ে পানি পার হতে দেখা গেছে। কেউ আবার সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ভারসাম্য রেখে চলাচল করেছেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী সজীব চৌধুরী বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তবে এবার পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ।
