চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে শিপ ও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যাতায়াতের একমাত্র নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপবাসীর জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই উত্তাল সমুদ্রের ঝুঁকি নিয়ে ছোট আকারের লালবোটে করে পারাপার করছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গত ২৮ এপ্রিল সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করলে সেদিন সকাল থেকেই সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবারও একই সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়। এর ফলে সন্দ্বীপসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় টানা ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতের প্রভাবে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।
বিশেষ করে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌরুটে এর বড় প্রভাব পড়ে। গত দুই দিনে এই রুটে কোনো ফেরি বা যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল না করায় গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে শতাধিক যানবাহন এবং অসংখ্য যাত্রী আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে রোগী, প্রবাসগামী যাত্রী ও চাকরিজীবীরা বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে ঝুঁকি নিয়ে লালবোটে পারাপারের ঘটনাও ঘটছে। গতকাল রবৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ৪০ জন যাত্রী একটি লালবোটে করে গুপ্তছড়া থেকে বাঁশবাড়িয়া ঘাটে পৌঁছান। তাদের একজন প্রবাসী আরিফুর রহমান জানান, জরুরি প্রয়োজনে টিকিটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি এভাবে যাত্রা করেছেন।
অন্যদিকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এর প্রধান মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি ও শিপ চলাচল শুরু হবে।
