চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় মোহাম্মদ হাসান রাজুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে প্রতিশোধ নিতে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাউজানে যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিন খুনের বদলা নিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল শুটারসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং হামলার পর পালিয়ে যেতে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বায়েজিদ বোস্তামী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মূল শুটার সৈয়দুল করিম (২৭), অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান (৩৭), মো. ইউনুস, মো. আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), মো. আবু বকর সিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী ওরফে বাচা মিয়া (৩৯)।
পুলিশ জানায়, রাউজানের কদলপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সংঘটিত ‘মধু নাসির’ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন নিহত রাজু। ওই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই অভিযুক্তরা কয়েক দিন ধরে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করে।
গত ৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরের রউফাবাদ এলাকার বাঁশবাড়িয়া গলিতে ভাড়া বাসার সামনে রাজুকে কাছ থেকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ সময় রেশমি আক্তার নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। তার চোখে গুলি লাগে এবং বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলায় ব্যবহৃত অটোরিকশাটি শনাক্ত করা হয়। প্রথমে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল শুটার সৈয়দুল করিমকে আটক করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সৈয়দুল করিম ও আজগর আলীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
