back to top

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি থেকে ২৩ নেতার পদত্যাগ

অযোগ্য ও বিতর্কিতদের পদায়নের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ১২:৩৩
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২৩ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য।

শুক্রবার পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিটিতে দপ্তর সম্পাদক পদ পাওয়া মোহাম্মদ রাফসান জানি। তিনি বলেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এতে চট্টগ্রাম মহানগরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, রাফসান জানির নেতৃত্বে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন যুগ্ম আহ্বায়ক, ৫ জন যুগ্ম সদস্যসচিব, ১ জন সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ১ জন সমাজকল্যাণ সম্পাদক, ১ জন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ২ জন সদস্য। তারা শুক্রবার আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।

পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে।

কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বা পরবর্তী কোনো আন্দোলনে ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, শোয়াইব আন্দোলনে সম্পৃক্ততার প্রমাণ দিতে পারলে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন।

সাঈদ আরও বলেন, সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এমন একজনকে রাখা হয়েছে, যিনি নারী শ্লীলতাহানির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

নতুন কমিটিতে সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদ পাওয়া মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, কমিটিতে এমন ব্যক্তিকেও পদ দেওয়া হয়েছে, যিনি ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে জেল খেটেছেন। তাঁর ভাষ্য, অনেক পদধারী কখনো এনসিপির আন্দোলন-সংগ্রাম বা কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন না। অযোগ্য ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়ায় তাদের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপির সদস্যসচিব ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন। তিনি বলেন, ৪১ ওয়ার্ডের সংগঠকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রায় এক হাজার সংগঠকের মধ্য থেকে মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সুজা উদ্দিন বলেন, “যেকোনো কমিটি ঘোষণার পর নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পদ না পেয়ে অনেকে অভিযোগ করে থাকেন। তবে এনসিপি সে রকম দল নয়। আমাদের কমিটির ১৬৮ জনের মধ্যে মাত্র ৩-৪ জন অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। এক হাজার জনের সবাইকে তো পদ দেওয়া সম্ভব নয়। সেখান থেকে কিছু অসন্তোষ থাকতেই পারে।”