চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেসব সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেগুলোর বেশির ভাগই কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ডিম, পেঁয়াজ ও আদার দাম। এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি ও দুই নম্বর গেট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম চড়া। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। বেগুন, ঢেঁড়স, কাঁকরোল ও ফুলকপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বরবটি ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া মুলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কচুর মুখি ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ধুন্দল ও ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি লাল শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, ডাটা ৪০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দামও। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে, যা আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজার থেকে স্বাভাবিক দামে পণ্য কিনে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, বাজারে কার্যত সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।
বহদ্দারহাট বাজারে সবজি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক রমিচ উদ্দিন বলেন, “কিছুদিন আগেও যে বেগুন ৬০ টাকায় কিনেছি, সেটি এখন ১০০ টাকা। কাঁকরোল, ঢেঁড়স, বরবটি—সবকিছুর দামই নাগালের বাইরে। বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন।”
তবে বিক্রেতাদের দাবি, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই বলেও দাবি তাঁদের।
ডিমের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। কয়েক মাস আগে খামারপর্যায়ে প্রতি ডিম ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৭০ পয়সা। খুচরা বাজারে ডজনপ্রতি ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। কোনো কোনো এলাকায় ১৫৫ টাকাও নেওয়া হচ্ছে। হাঁসের ডিমের ডজন ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, সরবরাহব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে যারা বাজারে আছেন, তাঁরা তুলনামূলক বেশি লাভ করছেন বলেও জানান তাঁরা।
মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। গত মাসে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা হয়েছে। দেশি মুরগির কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০ টাকা এবং রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা এবং ভুঁড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
