back to top

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা, চারটি সড়ক কেটে বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ০৯:০২
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অস্থায়ী র‍্যাব ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেছে। এতে র‍্যাব ও পুলিশের অন্তত ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।
ক্যাম্পে হামলার পরপরই জেলা পুলিশ সুপার ও র‍্যাব-৭-কে জানানো হলে রাত ৩টার দিকে বিপুল সংখ্যক র‍্যাব ও পুলিশ সদস্য যৌথ অভিযানে অংশ নেয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মাহিনুল ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার আগে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের কয়েকটি সড়ক কেটে ফেলে এবং একাধিক কালভার্ট ভেঙে দেয়। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে না পারে, সেজন্য পরিকল্পিতভাবেই এসব করা হয়।
র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত র‍্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় ১২ জন সদস্য আহত হন। হামলার খবর পাওয়ার পরই র‍্যাব-৭ সদর দপ্তর ও পুলিশকে জানানো হয় এবং তাৎক্ষণিক যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাত ৩টার দিকে যৌথ বাহিনী জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। তবে সন্ত্রাসীরা সড়ক ও কয়েকটি কালভার্ট ভেঙে ফেলায় যানবাহন নিয়ে যেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে চলে যায়। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।”
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ হামলার ঘটনায় জঙ্গল সলিমপুরের ইয়াসিন ও তার বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অনেকের মতে, সেই ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করতেই সন্ত্রাসীরা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
সদ্য যোগদানকারী চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গত ৮ মে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, আইনসম্মত সব কার্যক্রমে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এরপর এলাকাটি বেশ শান্ত ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সরকার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি, হাসপাতাল, গবেষণা কেন্দ্র, নতুন কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ৩০ মে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এলাকা পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। তার সফরের পর উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণ সহযোগিতা করলে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ক্ষমতা নেই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার।”
উল্লেখ্য, প্রায় তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দখল করে বিভিন্ন জেলার সন্ত্রাসীরা পাহাড় কেটে প্লট তৈরি ও বিক্রি করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে আসছে। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বল্পমূল্যে পাহাড়ে বসবাসের সুযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে অস্ত্র, মাদক ও অপহরণের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।