back to top

১১ ঘণ্টার অভিযান শেষে নিয়ন্ত্রণে জঙ্গল সলিমপুর, আটক ২৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলা

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ১৪:২৬
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগে যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বুলডোজার ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ক্যাম্পের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয় তারা। হামলাকারীরা এলাকায় প্রবেশের প্রধান সড়কসহ চারটি সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায়। পরে যৌথ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ২৫ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‍্যাব জানিয়েছে, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতে আলীনগর এলাকায় অবস্থানরত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং একে–৪৭ ধরনের অস্ত্র থেকেও গুলি ছুঁড়ে।

সড়ক বিচ্ছিন্ন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আটকানোর চেষ্টা

জানা গেছে, আগামী ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। যে ক্যাম্পে হামলা হয়েছে, সেটি ওই সফর উপলক্ষে প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং উদ্বোধনের পরিকল্পনাও ছিল। এর আগে ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

র‍্যাব সূত্র বলছে, হামলাকারীরা প্রথমে ক্যাম্পের আশপাশে অবস্থান নিয়ে গুলি ছুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে। একই সময়ে বুলডোজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল ও অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। সলিমপুরে প্রবেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে দিয়ে অভিযান পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এবং র‍্যাব-৭–এর কর্মকর্তারা।

র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, হামলার সময় আলীনগর স্কুল এলাকায় অবস্থানরত অস্থায়ী ক্যাম্প এবং সেখানে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। নতুন ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। এক্সকাভেটর দিয়ে সেটির বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে থাকা র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। হামলাকারীরা পাশের পাহাড়ে নির্মিত কয়েকটি টিনের ঘর ব্যবহার করে সেখান থেকে গুলি চালায়।

র‍্যাবের দাবি, পাল্টা প্রতিরোধের সময় মানবাধিকার ও অপারেশনাল নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সক্রিয় অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের পেছনে যারা সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অবৈধ অর্থনৈতিক স্বার্থ গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের অভিযানের কারণে সেই নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ায় অপরাধী চক্র প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতেও এলাকাটিকে অপরাধমুক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাধায় তা পুরোপুরি সফল হয়নি।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের ডিএডি মোতালেব হোসেন নিহত হন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এরপর এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে যৌথ বাহিনীর পৃথক চৌকি স্থাপন করা হয়।

সেই অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন।