back to top

অরক্ষিত অবস্থায় সন্দ্বীপের ৩৩ হাজার ভোল্ট সাবমেরিন ক্যাবল

বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সাগরের তলদেশে স্থাপিত ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে উপরিভাগের মাটি সরে যাওয়ায় ক্যাবল দুটির একটি অংশ বর্তমানে দৃশ্যমান হয়ে আছে। এতে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে দেখা যায়, ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভাঙনকবলিত এলাকায় ভাটার সময় প্রায় ৪০ ফুটজুড়ে ক্যাবল দুটি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৌতূহলী কিছু যুবক ক্যাবলের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছে, এমনকি লাফালাফিও করছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশিকুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের কারণে মাটি সরে গিয়ে ক্যাবল দুটি উন্মুক্ত হয়েছে। ভাটার সময় এগুলো আরও স্পষ্ট দেখা যায়। তিনি জানান, এলাকার কিছু তরুণ ক্যাবলের ওপর উঠে ভিডিও তৈরি করছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সন্দ্বীপের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অরক্ষিত অংশ দ্রুত সুরক্ষিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়ন অংশ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার সাগরের তলদেশে ১৮ থেকে ৩০ ফুট গভীরে সন্দ্বীপের বাউরিয়া পর্যন্ত ৩৩ হাজার ভোল্টের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল বসানো হয় ২০১৮ সালে। সাগরের তলদেশে ১৬ কিলোমিটার জুড়ে স্থাপিত এই দুটি ক্যাবলের প্রতিটিতে রয়েছে তিনটি কোর ও একটি অপটিক্যাল ফাইবার। একটি ক্যাবলে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে অন্যটি ব্যবহারের জন্যই দুটি ক্যাবল বসানো হয়েছে। এ দুটি ক্যাবলের মাধ্যমে মোট ৬০ মেগাওয়াট (প্রতিটি ৩০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব। বর্তমানে ক্যাবল দুটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।