back to top

৬ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম চমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২৬ ১৩:০৫
[photo_card_and_fontsize]

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। চিকিৎসকদের মেধা, শ্রম ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসকেরা বলেন, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। জনস্বার্থ ও চিকিৎসকদের যৌক্তিক অধিকারের স্বার্থে ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত গৃহীত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের নবম গ্রেডের সমমানের বেতন প্রদান এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবিও রয়েছে।

চিকিৎসকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা এবং বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়া অবৈধভাবে চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। একই সঙ্গে বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চিকিৎসা শিক্ষা সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় অনেক চিকিৎসক বিদ্যমান বয়সসীমার কারণে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলেও দাবি করা হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। অন্যথায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে চিকিৎসক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।