কুমিল্লার আল আমিন ও শিরিনা আক্তার দম্পতির দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা, অগণিত প্রার্থনা, হতাশা আর চিকিৎসার পর অবশেষে তাদের কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে যমজ পুত্রসন্তান। একসঙ্গে দুই শিশুর কান্নায় আনন্দে ভরে ওঠে প্রসূতি কক্ষ, আর স্বজনদের চোখে নেমে আসে আনন্দাশ্রু। গত শুক্রবার রাত এ দম্পতির জন্য স্বরনীয় হয়ে থাকবে। ইচ্ছে করে আল আমিন ও শিরিনা আক্তার দম্পতি এখবর গোপন রাখেন। আজ শুক্রবার সেবা আধুনিক হাসপাতালের ফেইসবুক ফেইজে পোস্ট করলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
বিয়ের পর দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নানা স্থানে চিকিৎসা নিয়েও সন্তানের মুখ দেখেননি তারা। একপর্যায়ে স্থানীয় মানুষের মুখে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতাল এবং গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেসমিনের সফল চিকিৎসার কথা শুনে কুমিল্লা থেকে মিরসরাইয়ে চলে আসেন। সন্তানের আশায় হাসপাতালের কাছেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে থাকেন আল আমিন ও শিরিনা আক্তার দম্পতি।
অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক বন্ধাত্ব, গাইনি , প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. জেসমিনের তত্ত্বাবধানে নিরাপদভাবে জন্ম নেয় ফুটফুটে দুটি পুত্রসন্তান। সন্তান দুটিকে প্রথমবার বুকে জড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা-মা। দুই নবজাতককে ঘিরে এখন আনন্দের উৎসব কুমিল্লা ও মিরসরাই—দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে।
নবজাতক দুই শিশুকে কোলে নিয়ে তাদের মামা জাকারিয়া বলেন, “পাঁচ বছর ধরে আমাদের পরিবারের সবার একটাই প্রার্থনা ছিল—এই দম্পতির কোল যেন ভরে ওঠে। অনেক চিকিৎসার পরও আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমত আর ডা. জেসমিনের আন্তরিক চিকিৎসায় আজ আমাদের ঘরে একসঙ্গে দুটি সন্তান এসেছে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা ডা. জেসমিন, মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান ঈশান, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সকল স্টাফের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেসমিন বলেন, “দীর্ঘদিন সন্তান না পাওয়া কোনো দম্পতির মুখে হাসি ফোটাতে পারা একজন চিকিৎসকের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চিকিৎসার প্রতি আস্থা, ধৈর্য এবং নিয়মিত ফলোআপের কারণেই আজ তারা এই সুখবর পেয়েছেন। মা ও দুই নবজাতকই সুস্থ রয়েছে। সন্তান না হলে হতাশ না হয়ে সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
আল আমিন বলেন, আমরা চট্টগ্রাম সহ দেশের বড় বড় ডাক্তারদের চেম্বারে অনেক ঘুরেছি। কোথাও আমাদের আশা পুরণ হয়নি। অবশেষে লোক মারফতে খবর পেয়ে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ জেসমিন এর সাথে যোগাযোগ করি। চিকিৎসার সুবিধার জন্য হাসপাতালের সাথে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। মহান আল্লাহ আমাদের প্রতি ডাঃ জেসমিন এর চিকিৎসার মাধ্যমে যমজ দুটি পুত্র সন্তান দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এবং কৃতজ্ঞতা জানাই হাসপাতালের এমডি আবদুর রহমান ও ডাঃ জেসমিন সহ সকল স্টাফদের।
মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান ঈশান বলেন, “রোগীদের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আধুনিক চিকিৎসা, দক্ষ চিকিৎসক এবং আন্তরিক সেবার মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। কুমিল্লা থেকে আসা এই দম্পতির মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। ভবিষ্যতেও মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হবে।”
স্বজনদের বিশ্বাস, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই তাদের ঘরে এসেছে এই দ্বিগুণ সুখ। তারা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সকল স্টাফের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে গাইনি ও প্রসূতি সেবায় ডা. জেসমিনের সফলতার এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। বন্ধ্যাত্ব, জটিল গর্ভধারণ ও নিরাপদ প্রসব ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতার কারণে শুধু মিরসরাই নয়, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন।
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, দক্ষ চিকিৎসক, আন্তরিক সেবা এবং রোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতাল উত্তর চট্টগ্রামের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কুমিল্লার এই দম্পতির পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর যমজ পুত্রসন্তান লাভের ঘটনাটি সেই আস্থার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
