back to top

বাতিল ঘোষিত অধ্যাদেশের ভিত্তিতে মধুমতি মডেল টাউনের জমি বাজেয়াপ্তের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২৯
[photo_card_and_fontsize]

সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের জমি বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে বাতিল ঘোষিত একটি অধ্যাদেশকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যে আইনি সংশোধনের আলোকে কোম্পানির জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ সেটিকে বহু আগেই অবৈধ ও “শুরু থেকেই বাতিল” ঘোষণা করেছেন। তাই এ সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই নয় এবং তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ভূমি ধারণ (সীমাবদ্ধতা) আদেশ, ১৯৭২-এ একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ১০০ বিঘা জমি রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক সরকারের জারি করা ১৯৮২ সালের ৩ নম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে ওই সীমাবদ্ধতা কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সংশোধিত বিধানকে ভিত্তি করেই মধুমতি মডেল টাউনের জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তবে ২০১১ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগ দেওয়ানি আপিল নং-৪৮/২০১১ মামলার রায়ে ওই অধ্যাদেশকে অবৈধ ও শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করেন। একই রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনগতভাবে অকার্যকর।
সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বলেন, “যে অধ্যাদেশের ভিত্তিতে কোম্পানির জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, সেটি আপিল বিভাগের রায়ে বহু আগেই বাতিল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই অধ্যাদেশের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আইনগত প্রশ্নের সৃষ্টি করে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
মধুমতি মডেল টাউনের প্লট মালিক মো. আব্দুল কাদের বলেন, “আমরা বৈধভাবে প্লট কিনে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছি। হঠাৎ জমি বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্তে হাজারো পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে আমাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হোক।”
আরেক প্লট মালিক শাহীনুর রহমান বলেন, “জীবনের সঞ্চয় দিয়ে প্লট কিনেছি। যদি বাতিল ঘোষিত অধ্যাদেশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা পুনর্বিবেচনা করে প্লট মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন।”
মধুমতি মডেল টাউন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জে এম মনির হোসেন বলেন, “মধুমতি মডেল টাউনের সঙ্গে প্রায় চার হাজার প্লট মালিক ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িত। সর্বোচ্চ আদালতের বাতিল ঘোষিত অধ্যাদেশের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। আদালতের রায়, প্রচলিত আইন এবং প্লট মালিকদের বৈধ স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
পরিবেশবিদ ড. সালেহ বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের রায়, পরিবেশগত বাস্তবতা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।”
এদিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের বিষয়টি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী আইনি ব্যাখ্যা বা সংশোধনের মাধ্যমে আদালতে পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে।
এ অবস্থায় মধুমতি মডেল টাউন কর্তৃপক্ষ আদালতের রায়, প্রচলিত আইন এবং প্লট মালিকদের স্বার্থ বিবেচনায় জমি বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।