back to top

এম এম এমরান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪২
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আবাসন প্রকল্পে প্লট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের বিপরীতে লাভ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ড. এম এম এমরান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বারইয়ারহাট ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনের অভিযোগ, ২০১২ সালে ‘সেভ অ্যান্ড শেয়ার’ নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি পাঁচ লাখ টাকা তৎকালীন সময়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছরেও মূল টাকা কিংবা প্রতিশ্রুত লাভ ফেরত না পাওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর মিরসরাই থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে টাকা লেনদেনের রসিদ, শেয়ার সার্টিফিকেট ও চুক্তিপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই অধ্যাপক।

অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লাখ টাকায় মাসে দুই হাজার টাকা করে লাভ দেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসাবে পাঁচ লাখ টাকায় মাসিক লাভ দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকা। ১৪ বছর বা ১৬৮ মাসের সরল হিসাবে প্রতিশ্রুত লাভের পরিমাণ ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মূল টাকা যুক্ত করলে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘টাকা দেওয়ার সময় শেয়ার সার্টিফিকেট, রসিদ ও চুক্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল। এরপর বহুবার যোগাযোগ করেছি। এম এম এমরান চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার পাড়ি দেওয়ার পরও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। যতোবারই যোগাযোগ করেছি প্রতিবারই টাকা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন , কিন্তু টাকা ফেরত পাইনি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

তাঁর অভিযোগ, ২০১২ সালে এম এম এমরান চৌধুরী মিরসরাই পৌরসভা ও বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় দুটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। সে সময় আমি সহ বহু মানুষ  লাভের আশায় বিনিয়োগ করেছি । হাউজিং ব্যবসায় তখন অনেক লাভ দেখিয়ে মানুষকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকৃষ্ট করা হয় । একপর্যায়ে মিরসরাই থানার সামনে থাকা এম এম এমরান চৌধুরীর  প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি ।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এম এম এমরান চৌধুরী ঢাকার আমিনবাজারে মধুমতি মডেল টাউন তথা মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের বর্তমানে এমডি।

অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনের দাবি, টাকা ফেরত চেয়ে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কার্যকর সমাধান পাননি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার কাছে থাকা কাগজপত্র যাচাই করে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আমার পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা হয়।’

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতারণার অভিযোগে নিয়মিত মামলা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে এম এম এমরান চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার গ্রীন রোড অফিসে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়া যায় । তার মোবাইলও সংযোগ পাওয়া যায়নি।