যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগকে ঘিরে চলমান ঘটনায় গত ১ জানুয়ারি শুটার কামরুন নাহার কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এবার শুটিং ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় দেশের অন্যতম সেরা এই শুটারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ফেডারেশনের সভায় নেওয়া শাস্তির চিঠি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কলিকে জানানো হয়।
শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসী সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, শুটিং ক্যাম্পের কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী কলি সাতটি ধারার বিধি ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি গত ২৫ জানুয়ারি তদন্তকাজে আসা পুলিশ সদস্যদের সামনে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি চরম অশালীন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
এতে ফেডারেশনের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬, ২০ ও ১৬.২১ ধারা অনুযায়ী তাকে শুটিং ক্রীড়া থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়।
কলির শাস্তি নিয়ে শুটিং ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বাবলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘এই মেয়েটি (কলি) ক্ষণজন্মা শুটার এবং বর্তমানের শ্রেষ্ঠ শুটার। তার প্রতি এই রূপ আচরণে আমি ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। একটি সিভিল ক্লাব থেকে তৈরি হয়ে প্রমাণিত সেরা খেলোয়াড় এই মেয়েটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বোচ্চ স্কোরধারী, বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালিস্ট। এখনও ক্যাম্পে সর্বোচ্চ স্কোরধারী শুটার তিনি। সম্প্রতি শেষ হওয়া দিল্লির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারলে হয়তো ফাইনালেও যেতে পারতেন।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘শুটিংবান্ধব পরিবেশের আশায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় এবং তা প্রমাণিত হওয়ায় একজন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুটিং ক্রীড়ার ইতিহাসে এই প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানাই। ফেডারেশনের অস্থায়ী কমিটির এমন সিদ্ধান্তে একজন শ্রেষ্ঠ শুটার শুধুমাত্র প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শুটিং জগত থেকে হারিয়ে যাবেন—তা কারও কাম্য হওয়া উচিত নয়।’
