back to top

চট্টগ্রামে প্রস্তুতি শেষ, অপেক্ষা ভোটের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫৮
[photo_card_and_fontsize]

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। গত সোমবারের মধ্যেই সব আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার। এর আগে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণও পাঠানো হয়।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য উপকরণ আগামীকাল বুধবার ভোটকেন্দ্রগুলোয় পাঠানো হবে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী উপকরণ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন তিনজন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন নগর ও নগরসংলগ্ন ৫টি আসনের; জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০টি আসনের এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী নগরের একটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন।
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ‘অপারেশন্স কমান্ড ও কন্ট্রোল রুম’ চালু করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কন্ট্রোল রুম থেকে নির্বাচন কার্যক্রম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪০ হাজার সদস্য নেমে পড়েছে চট্টগ্রামের মাঠে। তাছাড়া চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৩১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিংয়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সব মিলে চট্টগ্রামে ১৪২ জন জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন দায়িত্বে থাকা ১১৯টি মোবাইল টিম ও ৩০টি স্ট্রাইকিং পার্টিকে অপারেশন্স কমান্ড ও কন্ট্রোল রুমের আওতায় কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলার ১৭টি থানার সব ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রিয়েল-টাইমে টিমগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের ব্যবহৃত ৪৬৯টি বডিওর্ন ক্যামেরা অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি এসব ক্যামেরার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
ডিজিটাল অপারেশনাল ম্যাপে জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের মোট ১ হাজার ৩৫৮টি ভোটকেন্দ্রের অবস্থান (লাল, হলুদ ও সবুজ শ্রেণি) চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে ভোটকেন্দ্রের নাম, অবস্থান, ঝুঁকির মাত্রা, প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট থানার দূরত্বের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ছয় শতাধিক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে ৩১০টি এবং জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১৫ প্রার্থী। চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন। এবার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭০ জন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪০ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বাড়ির পথে মানুষ, বাস-রেলস্টেশনে ভিড়: নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে তিন দিনের ছুটি। ছুটিতে ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছে বহু মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন বাস কাউন্টার, রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত। এ ছাড়া ঘরমুখো লোকজনের ভিড় লক্ষ করা গেছে নগরীর দামপাড়া, কর্নেলহাট, একে খান, অলংকার, বাস টার্মিনাল, এক কিলোমিটারসহ অন্যান্য স্টেশনের বাস কাউন্টারগুলোতেও। বাস কাউন্টারের চেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। সকাল থেকে সব কয়টি ট্রেনে ছিল অতিরিক্ত যাত্রী।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে আজ বেশি যাত্রী ছিল।