back to top

তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে চট্টগ্রাম

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৮
[photo_card_and_fontsize]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সতর্ক অবস্থানে আছেন। নগরী এবং জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি ও তল্লাশি চলছে।

চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় ১৬টি সংসদীয় আসন মিলে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, এপিবিএন, বিজিবি, আনসার, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের সদস্যরা আছেন।

জেলায় নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অলরেডি মাঠে নেমে গেছি। জেলায় আমাদের সাড়ে চার হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করছে। আমাদের মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পেট্রল টিম, ডিবি ও সাদা পোশাকের পুলিশ আছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি সিস্টেমে কাজ হবে। বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে পুলিশ সদস্যদের কাছে। সিসি ক্যামেরাও আছে ভোটকেন্দ্রে।

তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,  ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্রের বাইরে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া- এ তিনটি বিষয় নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের ফোর্সের মনোবল অটুট আছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, বুধবার সকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্বাচনী কেন্দ্রের সরঞ্জাম বুঝিয়ে দিয়েছেন। রাতে কেন্দ্রে বুথ তৈরিসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা।

এর আগেই জেলার দূরবর্তী ও গ্রামীণ আসনগুলোর জন্য নির্বাচনী সরঞ্জাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছে। ধাপে ধাপে পুরো জেলার ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে এসব সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি তারা দেখছেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও তদারকিতে থাকবে বাড়তি সতর্কতা।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮৫ হাজার ১২৫ হাজার জন। গত নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৫ জন। এবার মোট ভোটারের ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫ জন পুরুষ এবং ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯১ জন নারী। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৬৯ জন।

মাঠে থাকবে র‌্যাবের ৫০ টহল টিম

নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র‌্যাব-৭। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, র‌্যাব-৭ এর আওতাধীন চার জেলায় ২০টি সংসদীয় আসনে মোট ৫০টি টহল দল মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি একটি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দায়িত্ব পালন করছে। এ কার্যক্রম ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে জানিয়ে মো.হাফিজুর রহমান বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ টহলও পরিচালিত হচ্ছে।