ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের ১০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ২১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং মাত্র ২টি সাধারণ কেন্দ্র। নির্বাচনে এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ১০৬টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অসুস্থতা
এদিন সকালে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিতে গিয়ে আবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার বরুণ কান্তি সাহা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে বাবলু বড়ুয়াকে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটার ও কেন্দ্রসংক্রান্ত তথ্য
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেছেন ৬ হাজার ৫৭২ জন। পোস্টাল ভোট বাদে সাধারণ ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০২ জন।
মোট ভোটকেন্দ্র ১০৬টি এবং বুথ সংখ্যা ৭১৮টি। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ আসনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭২ জন।
প্রার্থী যারা
নির্বাচনে মিরসরাই আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিত করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ) নুরুল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী (লাঙ্গল) সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী (হাতপাখা) ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী (আপেল) রেজাউল করিম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল মনোনীত প্রার্থী (হাত- পাঞ্জা) শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি মনোনীত প্রার্থী (তারা) প্রার্থী এ.কে.এম আবু ইউছুপ।
প্রার্থীদের বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে মিরসরাইকে টেকসই ও মানবিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বলেও জানান।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ১০ জন আনসার, ২ জন অঙ্গিভূত আনসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় ১ জন সশস্ত্র আনসার মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ১০টি মোবাইল টিম ও ৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার জানান, নির্বাচনের জন্য ১১২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৩৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৫০৮ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
