back to top

বিজয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন

নির্বাচনের পর সম্প্রীতির বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৭
[photo_card_and_fontsize]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন দেখালেন রাজনৈতিক সৌজন্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিজয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিষ্টি ও ফুল হাতে তিনি উপস্থিত হন তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট মো. ছাইফুর রহমানের বাড়িতে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নে অবস্থিত ছাইফুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তিনি। দুই নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং কুশল বিনিময় করেন আন্তরিক পরিবেশে। নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা যেখানে অনেক সময় বিভাজনের জন্ম দেয়, সেখানে এমন সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, সাবেক আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহীনুল ইসলাম স্বপন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম তৌহিদ, ঢাকাস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি আইয়ুব খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এডভোকেট মো. ছাইফুর রহমান বলেন, নুরুল আমিন ভাই আমার বাড়িতে আসায় আমি আনন্দিত। ফলাফল ঘোষণার পর আমিও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমরা একটি আলোকিত মিরসরাই গড়তে চাই। নতুন এমপি হানাহানি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কঠোরভাবে দমন করবেন- এটাই প্রত্যাশা। উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

বিজয়ী সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, নির্বাচন একটি প্রীতি ম্যাচের মতো। আমরা একে অপরকে ভাই হিসেবে দেখি। বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিন একসাথে রাজনীতি করেছে। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকলেও আমাদের লক্ষ্য একটাই—মিরসরাইয়ের উন্নয়ন। গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা লড়াই করেছি। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ মিরসরাই গড়ে তুলব।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই হতে পারে ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি।