মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দরবার টিলা এলাকায় দুই ব্যক্তিকে চোলাই মদ ঢেলে গোসল করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত ওই ভিডিও ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক দুই ব্যক্তি- আমান উল্লাহ ও আনোয়ার হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এলাকাবাসী তাদের চোলাই মদসহ হাতেনাতে আটক করে। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা তাদের শরীরে মদ ঢেলে ‘শাস্তি’ দেয়। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়।
ভিডিওটি জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। পোস্টের পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থন-আলোচনার ঝড় ওঠে।
এদিকে, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর প্রশাসন ও এলাকাবাসী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবী ও কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটছে।
জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এমপির জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি।
অন্যদিকে জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হোসেন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতাও পাচ্ছি।
জনতার শাস্তি নাকি আইন নিজের হাতে?
তবে বিশ্লেষকদের মতে, মাদকবিরোধী অবস্থান ইতিবাচক হলেও কাউকে প্রকাশ্যে অপমান বা শাস্তি দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়াই কাম্য। অন্যথায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি সামাজিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ- এই তিনটির সমন্বয়েই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
