বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিজয় অর্জন করে ‘ভূমিধস’ জয় পেয়েছে। সাধারণ আসনের ফলাফলের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে জোর আলোচনা।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসাবে চট্টগ্রামের ১৪টি সাধারণ আসনের বিপরীতে দুটি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবে বিএনপি।
মনোনয়ন দৌড়ে যাঁরা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ, লন্ডন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জেবুন নেছা রুনা ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী সুলতানা পারভীন।
সাকিলা ফারজানাকে ঘিরে জোর আলোচনা
সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমেরর কন্যা ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থী মীর হেলাল উদ্দীনকে বিজয়ী করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘদিন কারাবরণের বিষয়টিও তাঁর সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। তাঁদের আশা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার মূল্যায়ন হিসেবে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন তিনি।
গুম পরিবার থেকে প্রতিনিধি?
ফটিকছড়ির বিএনপি নেতা শহীদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যান ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে গিয়ে গুম হন। দলীয়ভাবে তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। গুম হওয়া পরিবারগুলোর কথা সংসদে তুলে ধরার লক্ষ্যে তাঁর স্ত্রী সুলতানা পারভীনকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
তৃণমূল নেত্রীদের প্রত্যাশা
চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ২০১১ সাল থেকে মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা ও মামলা-হামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদও বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং চাকরি হারানোর পরও দলীয় আদর্শে অবিচল থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় হাইকমান্ডের ইঙ্গিত অনুযায়ী, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং নির্যাতনের শিকার নেত্রীদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবান দুই নারী কে হচ্ছেন—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
