চট্টগ্রামে এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ঐতিহ্যবাহী বইমেলার আয়োজন হচ্ছে না। প্রতিবছর ভাষার মাসে রাজধানীর পাশাপাশি বন্দরনগরীতেও বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং পরপরই পবিত্র রমজান শুরু হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলা আয়োজন থেকে সরে আসতে হয়েছে। ফলে ভাষা আন্দোলনের মাসে বইকেন্দ্রিক যে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চট্টগ্রামের পাঠক-লেখকরা।
চট্টগ্রামে বইমেলার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। সংস্থাটির সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর নগরে বইপ্রেমীদের মিলনমেলা বসে। চসিকের সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং রমজানের সূচনার কারণে ফেব্রুয়ারিতে মেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত হয়নি। তবে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে বইমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রকাশকরাও এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, রমজান মাসে সাধারণত বিকেল ও রাতকেন্দ্রিক কার্যক্রম সীমিত থাকে, পাঠকের উপস্থিতিও কম হয়। স্টল ভাড়া, সাজসজ্জা, জনবল ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে যে ব্যয় হয়, তা এই সময়ে তোলা কঠিন। চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দীন বাবু বলেন, নির্বাচনের আগে মেলা আয়োজনের পরিবেশ ছিল না, আর নির্বাচন শেষে রোজা শুরু হওয়ায় আয়োজন করলে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যেত না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সীমিত হয়ে যেত। তাই রমজানের পর আয়োজনের দাবিই ছিল প্রকাশকদের পক্ষ থেকে।
তবে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও চট্টগ্রামে মেলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক লেখক ও পাঠক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও লেখক জি এইচ হাবিব বলেন, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা না হওয়া হতাশাজনক এবং এটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য ভালো বার্তা নয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে যুক্ত এই আয়োজন স্থগিত থাকলে লেখক-পাঠকের মানসিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কথাসাহিত্যিক আসিফ আহমদের মতে, একুশের মাসে বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্থানীয় লেখকদের বই পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মেলার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাই দ্রুত বিকল্প সময় নির্ধারণ করে আয়োজন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
