ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের বিপরীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তাকে ‘অত্যন্ত নতজানু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবার কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবলে পড়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্ব এবং মুসলিম বিশ্বের এক নেতার মৃত্যুকে ঘিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রেস রিলিজ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের দি কিং অফ চিটাগং কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আমাদের সংগ্রাম কেবল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নয়; বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো পরাশক্তির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
বর্তমান সরকারের একজন উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোনো পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য বা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পুরস্কার হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে সংস্কার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। নতুন বাংলাদেশে এনসিপি এবং পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই একসঙ্গে থাকতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তরুণদের শক্তিকে দমন করতে নানা অপশক্তি সক্রিয় ছিল। তবে জনগণের সহযোগিতায় এনসিপি জাতীয় সংসদে ৬টি আসন নিয়ে প্রবেশ করেছে এবং রাজপথের আন্দোলন সংসদেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলের প্রাপ্ত সব ভোট ধরে রাখা সম্ভব হয়নি; জনসমর্থন পুনরুদ্ধারে এখন থেকেই মাঠে নামতে হবে।
গণঅভ্যুত্থানের পর প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দায়েরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার পরিণতি শুভ হবে না। দ্রুত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আক্তার হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী, অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার এবং যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
