চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে যা সাধারণত মিয়ানমার অঞ্চলে ব্যবহৃত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গোপন আস্তানায় এসব অস্ত্র মজুদ করে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।

অভিযানে মোট তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি এলজি রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এর মধ্যে রয়েছে ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ এবং ৬১টি কার্তুজ। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রায় এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযান থেকে ১১টি ককটেল ও ১৮টি হেক্সোব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ নানা যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরি করা হতো বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, অভিযানের সময় পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়। এসব নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত এবং অভিযানের আগাম তথ্য পেত। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানের খবর পেয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তবে তাদের স্থাপিত আস্তানা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পুনরায় সেখানে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, এই মুহূর্তে দুটি ক্যাম্পই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথেষ্ট। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট এবং টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি। প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।
অভিযানের পর সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ১৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স, এপিবিএন এবং র্যাব-৭ এর মোট ২৩০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও নজরদারি কার্যক্রম চালু থাকবে। এর মাধ্যমে এলাকায় স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাসীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হবে।
