চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর এক ধরনের সুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। এলাকায় বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং স্বাভাবিক দিনের তুলনায় মানুষের আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযানের পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নারী ও শিশুরা বাড়িতে থাকলেও অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকায় অবস্থান করছেন না। অনেকেই সাময়িকভাবে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানান এলাকাবাসী। এলাকার রাস্তাঘাটেও আগের মতো ভিড় নেই। দোকানপাট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন।
এদিকে, গতকাল বুধবার জঙ্গল সলিমপুর ও আলিপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। পরিদর্শনকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চলমান পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পুলিশ সুপার বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুর ও আলিপুর এলাকার জনগণকে আইনসম্মত সকল কার্যক্রমে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি এলাকায় সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
এর আগে গত সোমবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানের পর এলাকায় পুলিশ ও র্যাব-এর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল।
