চট্টগ্রামে কয়েক দিনের ব্যবধানে ভোজ্য তেলের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে নগরে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় ৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম প্রায় ৬ টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২০২ টাকায়। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২ থেকে ১৭৫ টাকায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ সময়ের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও প্রতি লিটারে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও গত এক সপ্তাহে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম মণপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার ১৭০ টাকায় এবং পাম তেল প্রায় ৬ হাজার ৬০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ইফরান বলেন, পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে তেল সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে খুচরা বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়ৎদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দীন বলেন, গত শনিবার রাত থেকে পাম অয়েল, সয়াবিন তেল, চিনি ও গমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামে হঠাৎ ওঠানামা শুরু হয়। ইরানে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো বেশিরভাগ পণ্যই বাড়তি দামে লেনদেন হচ্ছে।
তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য একটি ইস্যু খোঁজেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা সেই সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এত দ্রুত স্থানীয় বাজারে পড়ার কথা নয়। জ্বালানি তেলের সংকট হলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পরে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা এখনো চোখে পড়ছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ লাখ ৩৮ হাজার টন পাম অয়েল এবং ৪ লাখ ৬৩ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বিপুল আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও বাজারে দামের অস্থিরতা তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।
