স্থানীয় একটি সংবাদ প্রতিবেদন কীভাবে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হতে পারে; তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর খাল। গত ৯ মার্চ “বামনসুন্দর খাল এখন বর্জ্যের ভাগাড়” শিরোনামে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেদনটি করেন মিরসরাই প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পত্রিকাটির মিরসরাই প্রতিনিধি সাংবাদিক নুরুল আলম।

সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আসে। সেচ দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান খালটির করুণ অবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের রেফারেন্স ধরে দেশের ৫৪ জেলায় একটি করে খাল খননের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকার, যার অন্তর্ভুক্ত হয় মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর খালও।
সরকারের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের আওতায় গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে স্থান করে নেয় বামনসুন্দর খাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলা ও অবৈধ দখলের কারণে খালটির নাব্যতা প্রায় বিলীন হয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, কৃষি সেচে সমস্যা এবং পরিবেশ দূষণের মতো নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। খালটি পুনঃখনন করা হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে।
এদিকে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সাংবাদিক নুরুল আলম প্রশংসায় ভাসছেন। স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সচেতন সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। জনস্বার্থে সত্যনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই পারে বাস্তব সমস্যাকে সামনে এনে কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করতে। বামনসুন্দর খাল নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সেই দায়িত্বশীলতারই প্রতিফলন।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের কাজ অন্য সাংবাদিকদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে। বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কার্যক্রম তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পই নয়, বরং সাংবাদিকতার সার্থকতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক নুরুল আলম বলেন, আমি মূলত জনস্বার্থের বিষয়টি সামনে রেখেই বামনসুন্দর খালের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে খালটির এই বেহাল অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতিবেদনটি করেছি।
তিনি আরও বলেন, একটি সংবাদ যে এত দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং জাতীয় পর্যায়ের একটি কর্মসূচির অংশ হতে পারে; এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি প্রমাণ করে, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
নুরুল আলম বলেন, আমি মনে করি, সাংবাদিকদের উচিত স্থানীয় সমস্যাগুলো নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। তাহলে সংশ্লিষ্ট মহল সেগুলো সমাধানে উদ্যোগী হবে। বামনসুন্দর খাল নিয়ে এই উদ্যোগ সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
