back to top

ঈদে পর্যটকদের ঢলের অপেক্ষায় মিরসরাই, প্রস্তুত সব পর্যটন স্পট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
[photo_card_and_fontsize]

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন রূপে সেজেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পাহাড়, ঝর্ণা, লেক ও সাগরের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব স্পট বরাবরই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিবছরের মতো এবারও দীর্ঘ সরকারি ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

মিরসরাই উপজেলার পূর্ব পাশজুড়ে রয়েছে সুউচ্চ পাহাড়। সেই পাহাড়ের বুক চিরে কলকলিয়ে নেমে এসেছে অসংখ্য ঝরনা। পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে নয়নাভিরাম হ্রদ। উপজেলার উত্তর পাশে বয়ে চলেছে ফেনী নদী এবং পশ্চিমে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সাগর। বন, পাহাড়, ঝরনা, নদী ও সমুদ্রের এমন সম্মিলন দেশের অন্য কোথাও বিরল। এ কারণেই মিরসরাইকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে রয়েছে ঘন সবুজ চিরহরিৎ বন, যেখানে নানা প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর সমাহার দেখা যায়। এসব পাহাড় ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঝরনাধারা। উল্লেখযোগ্য ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, সোনাইছড়ি ঝর্ণা, বোয়ালিয়া, বাওয়াছড়া ও মহামায়া লেক। ঝুঁকির কারণে বন বিভাগের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকা মেলকুম ট্রেইলও পর্যটকদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ২০ বা ২১ মার্চ। সরকারি ছুটি মিলিয়ে ৪–৫ দিনের অবকাশ থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে কাছাকাছি পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।

মিরসরাইয়ের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে মহামায়া ইকোপার্ক, রূপসী ঝর্ণা, বাওয়াখালী লেক, সোনাপাহাড় প্রকল্প, আরশী নগর ফিউচার পার্ক, মুহুরী সেচ প্রকল্প এবং ডোমখালী সৈকত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি উন্নত সুযোগ-সুবিধা পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করছে।

আরশী নগর ফিউচার পার্কের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে পার্কটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদে ঘুরতে পারবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করেছি। আমরা আশা করছি, এবার পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাবো।”

সোনাপাহাড় প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, “এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদের সময় পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

খৈয়াছড়া ঝর্ণার লিজগ্রহীতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা, গাইড ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ মৌসুমকে ঘিরে তারা সারা বছর অপেক্ষা করেন। পর্যটকদের আগমনে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসে। ইতোমধ্যে হোটেল, রিসোর্ট ও খাবারের দোকানগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি যাতায়াত ও পার্কিং ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মিরসরাইয়ের এসব পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে ঈদ মৌসুমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও যথাযথ প্রচারণা অব্যাহত থাকলে মিরসরাই অচিরেই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।