back to top

ফাঁকা চট্টগ্রাম নগরী, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে ভিড়

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৮
[photo_card_and_fontsize]

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এখন অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার থেকে নগরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে চিরচেনা যানজট ও জনসমাগম অনেকটাই কমে গেছে। তবে শহর ফাঁকা হলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে যাত্রাকেন্দ্রগুলোতে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, আরপি বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাউন্টার এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় মানুষ আগেভাগেই শহর ছাড়তে শুরু করেছেন। শনি ও রবিবার থেকে শুরু হওয়া ঘরমুখী মানুষের ঢল সোমবার শবে কদরের পর আরও বেড়ে যায়। বুধবার সকাল থেকেও আশপাশের জেলার বাসিন্দারা শহর ত্যাগ করছেন, যার প্রভাব পড়েছে নগরীর যান চলাচলে।

মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার আগেই গ্রামে চলে যাওয়ায় এবং সাধারণ মানুষ শবে কদরের আগেই কেনাকাটা শেষ করে বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় শহর দ্রুত ফাঁকা হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা সাত দিনের অবকাশ নগরবাসীর এই যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

তবে রেল স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল মানুষের ভিড়। কেউ মেঝেতে বসে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ লাইন, গরম ও ভিড় সত্ত্বেও যাত্রীদের মুখে ছিল বাড়ি ফেরার আনন্দের হাসি। একই চিত্র দেখা গেছে অলঙ্কার, এ কে খান ও দামপাড়া এলাকার বাস টার্মিনালগুলোতেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রীরা বাড়ি ফেরার আনন্দে কষ্টকে তুচ্ছ করে নিচ্ছেন।

যাত্রীদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে বিশেষ ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করতে হচ্ছে। বাস টার্মিনালগুলোতেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি।

কথা হয় আশিকুর রহমান নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে সময় দেওয়া যায় না। ঈদই একমাত্র সুযোগ, তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরছি।

নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ীর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, যানজট এড়াতে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি রোধ, সময়সূচি মেনে ট্রেন চলাচল, পর্যাপ্ত আলো, বিশুদ্ধ পানি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • এদিকে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৯ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে জরুরি সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ হটলাইন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসাবাড়ি ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তালা ব্যবহার, মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।