চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন ঘরে তুলছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য শেষে এখন ফলনের ভারে নুয়ে পড়েছে সরিষা গাছ। কৃষকরা পুরোদমে ব্যস্ত ফসল কাটার কাজে । ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্যের আশায় রয়েছেন চাষিরা। এবার কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মিরসরাইয়ে ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৬৫০ হেক্টর।
২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল, সেখানে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৬৫০ হেক্টরে। চলতি বছরে তা আরও বেড়ে হয়েছে ৬৬৫ হেক্টর। দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া, ইছাখালী, ওয়াহেদপুর ও করেরহাট ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রণোদনা, উন্নত বীজ সরবরাহ ও কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এছাড়া কম সময়ে ও কম খরচে লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের কৃষক এক কৃষক জানান, তিনি প্রতি বছর সরিষা চাষ করেন এবং এবারও এক একর জমিতে আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি নিজেই সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করছেন।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা একরামুল হক বলেন, অনলাইন থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রথমবার ৫৪ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। বারি-১৭ ও বারি-১৪ জাতের সরিষা থেকে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
অন্যদিকে কৃষক নুরুল আবছার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে চাষ করেছেন। নিজের উৎপাদিত সরিষা থেকে তেল তৈরি করে সারা বছর ব্যবহার করছেন, ফলে বাজার থেকে ভোজ্য তেল কিনতে হচ্ছে না।
ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কৃষক মহিউদ্দিন টিপু বলেন, শুরুতে নিজের চাহিদা মেটাতে অল্প জমিতে চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে সরিষা উৎপাদন করছেন।
জোরারগঞ্জ এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনজুর হায়দার জানান, তার দায়িত্বাধীন এলাকায় চলতি বছর ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে এবং কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার কৃষক সরিষা চাষে যুক্ত রয়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ, বীজ ও সারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরিষা চাষ একদিকে যেমন স্থানীয় ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
