- উত্তর মোবারকঘোনা শুক্রবারইয়ারহাট ওসমান আলী ভুঁইয়া বাড়ীর বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মো. খুরশিদ আলম ভুঁইয়া ছুট্টুর সহধর্মিণী জনাবা হোসনে আরা বেগম (৮৫) আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মো. খুরশিদ আলম ভুঁইয়া ছুট্টু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি শুক্রবারইয়ারহাটে নিজ দোকানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করতেন এবং অস্ত্র সংরক্ষণ করতেন। এ কারণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে বাড়ির পাশে গুলি করে শহীদ করে।
ওসমান আলী ভুঁইয়া বাড়ীর বাসিন্দা হারুন রশীদ জানান, শহীদ খুরশিদ আলম ভুঁইয়া ছুট্টু তার চাচা ছিলেন এবং তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতেন।
এএইচএম মনজুর আলম বলেন, “মরহুমা আমার ফুফু হলেও আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তিনি আমাদের স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করেছেন। স্বামী শহীদ হওয়ার পর তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাননি, বাপের বাড়িতেই থেকে গেছেন। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর মৃত্যুর পর তাকে স্বামীর পাশে দাফন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”
মরহুমার একমাত্র সন্তান, শুক্রবারইয়ারহাট জামে মসজিদের অর্থ সম্পাদক মো. নুরুল আলম মায়ের জানাজায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
স্বজনদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে তার স্নেহময় ব্যক্তিত্ব। এএইচএম মনজুর আলমের বড় ছেলে ফসিউল আলম তাসকিন বলেন, “আমরা যখনই বাড়িতে আসতাম, দাদু আমাদের অনেক আদর করতেন। দাদু আমাদের পরিবারের আলোকবর্তিকা ছিলেন। তার স্মৃতি কখনো ভোলার নয়।”
এএইচএম ফাঈমুল আলম চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের দাদী হোসনে আরা বেগম ছিলেন পরিবারের মমতার এক আলোকবর্তিকা। ছোটবেলা থেকে তার স্নেহ, আদর আর শাসনের মধ্যেই আমরা বড় হয়েছি। তিনি সব সময় আমাদেরকে নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দিতেন। তার জীবন ছিল ত্যাগ, ধৈর্য ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দাদীর এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুরশিদ আলম ভুঁইয়ার সহধর্মিণী হোসনে আরা বেগম আর নেই, দাফন সম্পন্ন
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৪৭
[photo_card_and_fontsize]
