back to top

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব খাতুনগঞ্জে, আমদানি করা পণ্যের দামে অস্থিরতা

ভোজ্যতেল, চিনি ও মসলাজাত পণ্যের দাম বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০১
[photo_card_and_fontsize]

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণ দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আমদানি নির্ভর পণ্য ভোজ্যতেল, চিনি ও মসলাজাত পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ভোজ্যতেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ৪০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে পাম অয়েলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৬ হাজার টাকা। পাম সুপার অয়েলের দামও ৬ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭২০ টাকা।

চিনির বাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৪২০ টাকায়। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ টাকায়। এতে খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুধু তেল ও চিনিই নয়, অস্থির হয়ে উঠেছে মসলার বাজারও। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বেশি বেড়েছে। টক ও মিষ্টি আলুবোখারা, জিরা, জায়ফল, জয়ত্রী, কিশমিশ ও পেস্তাবাদামের মতো পণ্যে দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

মিষ্টি আলুবোখারার দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫০০ টাকা। টক আলুবোখারার দাম আরও বেশি বেড়ে ৮২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২০ টাকায়। ইরান থেকে আমদানি করা জিরার দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা থেকে আসা জয়ত্রীর দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

একইভাবে জায়ফলের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২০ টাকায়। কিশমিশের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকায়। পেস্তাবাদামের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কেজিতে ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাবার সোডা ও সাগুদানার মতো পণ্যেও দাম বেড়েছে। খাবার সোডা কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। সাগুদানার দাম কেজিতে ১৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান ও ঈদের সময় বাজার স্থিতিশীল ছিল। সে সময় বড় ধরনের দাম বৃদ্ধি হয়নি। তবে ঈদের পরপরই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এর পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করছেন।

তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনতে আগে যেখানে ৩০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন বলেন, খাতুনগঞ্জের অধিকাংশ পণ্যই আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে ইরান ও আরব অঞ্চল থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের বুকিং রেট বৃদ্ধিকে দায়ী করেন। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে ধীরে ধীরে ভোগ্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।