পরিচয় দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোক। সঙ্গে আছে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, বাওফেং মডেলের ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট ও একাধিক মোবাইল ফোন। আবার এআই দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও বানিয়ে প্রচার করেন ফেসবুকে। সব মিলিয়ে যেন পুরোপুরি একটি ‘প্রভাবশালী’ চরিত্রের সাজ। আর এই ছদ্মবেশেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছিলেন রিয়াদ বিন সেলিম (৪০)। এমন অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ছবি ও ভুয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রতারণা চালাতেন। শনিবার দিবাগত রাতে পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ‘সিএসএফ চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স’ লেখা আইডি কার্ড, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, বাওফেং মডেলের ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সেল কার্ড এবং একাধিক মোবাইল ফোন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিয়াদ তার ফেসবুক আইডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান জেলহাজতে থাকাকালে রিয়াদ তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জামিনের আশ্বাস দেন। এ প্রলোভনে প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গসহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রিয়াদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ক্রাইম) নাজমুল হাসান বলেন, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়েও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশের ধারণা, প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধ করে আসছিলেন রিয়াদ। তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
