back to top

শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের ১০টিই এস আলমের

সংসদে তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৮
[photo_card_and_fontsize]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবম দিনে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব কোম্পানির কাছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম চারটিসহ ১০টি বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম মাসুদের। দুটি সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (কুমিল্লা-৪) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অর্থমন্ত্রী সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও তুলে ধরেন। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি., এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লি., এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লি., এস আলম কোল্ড রোলেড স্ট্রিলস লি., সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইস্পাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লি., ইনফিনাইট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কেরানীগঞ্জ ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি. এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে এর মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।

এস আলম পরিবারের হাতে পাচার ১২ বিলিয়ন ডলার

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের মোট পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। পাচার করা অর্থ উদ্ধারে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, এস আলম পরিবার একাই প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাইফুল আলম মাসুদ ও তার সহযোগীরা একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ঋণ ও আমদানি জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেয়।

সাইফুল আলম মাসুদ ২০০৯ সালে সাইপ্রাস এবং ২০২০ সালে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নেন। এরপর ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর তিনি, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং তাদের তিন ছেলে আহসানুল আলম, আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহির বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। একই দিন বিদেশি নাগরিক হিসেবে পরিবারটি বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল বা পিআর পায়। বর্তমানে এস আলম পরিবার সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে বসবাস করছে।