চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও দ্রুত শনাক্তকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষার সংকট। অথচ নগরীর ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে রয়েছে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার সুবিধা। প্রয়োজনীয় কিট ও সরকারি অনুমতির অভাবে সেখানে এখনো হাম শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। ফলে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হচ্ছে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি। এতে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অনুমতি ও কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামেই হাম শনাক্তের পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হবে। এতে রোগ নির্ণয়ে সময় কমবে, চিকিৎসা কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিআইটিআইডি সংক্রামক রোগ চিকিৎসা ও গবেষণায় দেশের অন্যতম বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক রিয়েল-টাইম পিসিআর ও এলাইজা মেশিন, যক্ষ্মা শনাক্তে জিন এক্সপার্ট এবং রক্ত পরীক্ষার জন্য অটোমেটেড অ্যানালাইজারসহ বিশ্বমানের ল্যাব সুবিধা। করোনা মহামারির সময় এই প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের প্রধান নির্ভরতায় পরিণত হয়েছিল।
বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাম পরীক্ষার অনুমতি ও প্রয়োজনীয় কিট চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মার্চের শেষ সপ্তাহে পাঠানো ওই চিঠির এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিআইটিআইডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইফতেখার আহমেদ বলেন, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি ও কিট পাওয়া গেলে দ্রুতই চট্টগ্রামেই পরীক্ষা চালু করা সম্ভব হবে এবং এজন্য অতিরিক্ত জনবলও প্রয়োজন হবে না।
প্রতিষ্ঠানটির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. জাকির আহমদ বলেন, বিআইটিআইডিতে বায়োসেফটি লেভেল-২ এবং দেশের একমাত্র কার্যকর বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাব রয়েছে। হাম, রুবেলা ও কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম শনাক্তে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা ও স্বীকৃতি আছে। কোভিড-১৯ সময়ে এখানে প্রায় চার লাখ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা এ ল্যাবের সক্ষমতার প্রমাণ।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বর্তমানে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী যেসব শিশু টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে, তবে রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
তিনি আরও বলেন, হাম পরীক্ষার জন্য বায়োসেফটি লেভেল-৩ মানের ল্যাব প্রয়োজন, যা বিআইটিআইডিতে রয়েছে। সেখানে পরীক্ষা চালু করা গেলে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গতকাল সোমবার গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চার জনের শরীরে হাম রোগ শনাক্ত হয়। চট্টগ্রামে এ নিয়ে মোট ১৮ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক হাম উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগের মধ্যে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় নতুন করে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
